
বিড়াল কামড়ালে বা আঁচড় দিলে করণীয় কি

বিড়াল কামড়ালে বা আঁচড় দিলে অনেকেই ভয় পেয়ে থাকেন, ভাবেন জলাতঙ্ক হতে পারে। তাই ইনজেকশন দিতে ছুটে যান ডাক্তারের কাছে। আবার অনেকে ভয়াবহ কামড়কেও পাত্তা না দিয়ে ঘরে বসে থাকেন।
আসলে কি করা উচিৎ তা জেনে নেওয়া ভালো। সাধারণত বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় বিড়ালের আঁচড় চামড়ার একেবারেই উপরিভাগে থাকে, রক্তও গড়িয়ে পড়ে না। এসব ক্ষেত্রে খুব একটা বিচলিত হওয়ার কারণ নেই। আবার কিছু কিছু সময় দেখা যায় বিড়ালের আঁচড় গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে। এক্ষেত্রে সচেতন হওয়া জরুরি। আর বিড়াল কামড়ালে তা নিয়ে অবশ্যই অবহেলা করবেন না। প্রথমেই সাবান আর পানি নিন, জলাতঙ্কের জীবানু (Rabis Virus) কে ঠেকাতে যে কোন ধরণের এন্টিবায়োটিকের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সাবান পানি।এই ভাইরাসের চারিদিকে স্নেহ জাতীয় পদার্থের আবরণ থাকে যা সাবানের মাধ্যমে খুব সহজেয় ধ্বংস হয়ে যায় যা অনেক এন্টিবায়োটিক সমাধান করতে পারে না। তাই যত গভীর ক্ষতই হোক না কেন তা সাবান পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। এইসব ক্ষেত্রে এন্টিবায়োটিকে ব্যবহার করতে হয় অন্যসব ব্যাক্টেরিয়ার আক্রমণ ঠেকাতে। এজন্য তরল এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করা ভালো, যেমন ডেটল, স্যাভলন ইত্যাদি। তবে ১০ সেকেন্ড ধরে হাইড্রোজেন পার অক্সাইড সলিউশন বা পভিসেপ (আয়োডিন সলিঊশন) ব্যবহার করলে তার উপকারিতা হবে সবচেয়ে বেশী।
যদি খুব বেশী রক্ত পড়ে তবে রক্তপাত ঠেকাতে ছোট ব্যান্ড এইড বা গজ করতে পারেন, তবে লক্ষ্য রাখুন যেন রক্ত বন্ধ হলেই ব্যান্ডেজ খুলে দেওয়া হয়। কারণ ক্ষতস্থানে বাতাস আসা যাওয়া করলে সেখানে টিটেনাসের(ধনুষ্টংকার) জীবানু বাসা বাধার সুযোগ পায় না। এন্টিবায়োটিক মলম বা ক্রিম না দেওয়াই ভালো কারণ ঠিকমত পরিষ্কার না হলে অনেক সময় ক্ষতে জমে যাওয়া ময়লা থেকে ক্রীমের নীচে বাতাসহীন পরিবেশে টিটেনাশের জীবাণু বংশবৃদ্ধি করতে পারে। যেখানে কামড় দিয়েছে ঐ স্থানে যদি ফুলে যায়, রক্ত পড়ে কিংবা ঘা হয়, জ্বর আসে তাহলে শীঘ্রই ডাক্তার দেখাতে হবে। আপনার বিড়ালে এলার্জি থাকলে বিড়াল থেকে দূরে থাকুন, কারণ সেক্ষেত্রে বিড়ালের আঁচড়ে আপনার চামড়ার বেশী ক্ষতি হতে পারে। এছাড়া বিড়ালের লোম থেকেও এলার্জিকদের শ্বাসকষ্ট হতে পারে।










0 $type={blogger}:
Post a Comment